পর্দা করার সঠিক নিয়ম এবং পর্দা ও ফ্যাশনের পার্থক্য


الحمد اللہ رب العلمین. ﺍﻟﺼﻠﺎﺓ و السلام علی ﺭﺳﻮﻟﻪ الکریم
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জাহানের মালিক। দুরুদ ও সালাম বিশ্বনবী, মায়ার নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর প্রতি।

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى.

পর্দা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফরয বিধান। মুসলিম নারীরা হিজাব বা পর্দা পালনের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, পরিমার্জিত, শালিন, সুন্দর ও কল্যাণময় জীবন  এবং নিরাপদে থাকার জন্যই আল্লাহ পাক নারীদেরকে পর্দার হুকুম দিয়েছেন। এবং বলেছেন পর্দাই হল নারীদের জন্য উত্তম আশ্রয় স্থল। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে আমাদের দেশে হিজাব পরিধান কারীনিদের সংখ্যা বাড়লে ও আল্লাহ কে ভয় করে প্রকৃত হিজাব পরিধান কারীনিদের সংখ্যা খুবই কম। পর্দার বস্তু বোরকা হয়ে গেছে এখন ফ্যাশনাবল। কিছু সংখ্যক নামধারী মুসলিম রমনিরা এমন রং আর ঢং এর বোরকা পরিধান করেন যে, শয়তান ও তা দেখে মুচকি হাসে! এই পর্দার নামে এখন চলছে যেমন খুশি তেমন সাজো অবস্থা। বর্তমান সমাজে বোরকার অপব্যবহার এতটাই প্রকট আকার ধারন করেছে যে, তা বর্ননার বাহিরে। এমন ভাবে বোরকা তৈরী করা হচ্ছে যে, টাইট ফিটিংয়ের কারনে এমন ভাবে তা শরিরে লেপ্টে থাকে যে, যারা বোরকা পড়েনা তাদেরকে ও হার মানায়। হিজাব এখন লেটেষ্ট ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। চলছে বোরকায় অধিক কারুকার্য লাগানো ও টাইট ফিটিংয়ের প্রতিযোগিতা।
এই ভাবে কি পর্দা পালন হয়? পর্দার বিধান মানা হয়??

পর্দা মূলত কি?

পর্দা হলো, নারীরা পরপুরুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকা। ঘরে অবস্থান করে হোক বা বোরকা পড়ে, যে ভাবেই হোক।
আল্লাহ পাক পবিত্র ক্বোরআনে ইরশাদ করেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

"তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করো, মূর্খতা যুগের ন্যায় নিজেদেরকে পদর্শন করো না। (সূরা আহযাব: ৩৩)

উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মহিলাগণ কে ঘরে অস্থান করার আদেশ করেছেন।
নবীজি (সা.) এর হাদীস:

عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, নারী জাতি হল আপাদমস্তক সতর। যখনি সে বের হয়, তখনি শয়তান তাকে চমৎকৃত করে তোলে।
{সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১৭৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২০৬৫, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৬৮৫,  সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৫৯৮}

তাই নারীর জন্য বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে যাওয়া বৈধ নয়।
অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,[br][br]

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ

আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।
(সূরা আহযাব: ৫৩)

উক্ত আয়াতে সু-স্পষ্ট ভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, একান্তই যদি কথা বলতেই হয় তবে, পর্দার আড়াল থেকেই কথা বলতে হবে। কোন অবস্থাতেই বেগানা নারী-পুরুষ সরাসরি একে অপর কে দেখা জাইয নয়।
অন্য আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا

হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। [মাথার দিক থেকে] এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সূরা আহযাব: ৫৯)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।
(ফাতহুল বারী ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪)

উল্লেখিত আয়াত ও হাদীসগুলোর প্রতি লক্ষ করলে বুঝা যায় যে, পর্দা হলো, নিজেকে পরপুরুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখা। পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষন থেকে মুক্ত থাকা।
হোক তা ঘরে অবস্থান করে বা বোরকা পড়ে। এটাই হলো মূলত সত্যিকার অর্থে পর্দা।
এখন যদি কেউ টাইট ফিটিং বোরকা পরিধান করে তাহলে তো টাইট ফিটিং এর কারনে অবশ্যই তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠবে। তার গঠন আকৃতি পরিষ্কার ভাবে বুঝা যাবে।
তাহলে এটা তো নিজেকে আবৃত্ত রাখা হলো না, বরং উত্তম ভাবে পরপুরুষের সামনে পদর্শন করা হলো।
অথচ আল্লাহ পাক বলেছেন,
"তোমরা নিজেদেরকে পদর্শন করো না, বরং আবৃত্ত রাখো"
এমতাবস্থায় তো পর্দার বিধান মানা হলো না, বরং পর্দা কে নিয়ে উপহাস করা হলো।
বোরকা পরিধান করার অর্থ হলো, বোরকার মাধ্যমে নারী তার দেহ কে পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে বাচিয়ে রাখা।
এখন যদি কারুকার্য কৃত বোরকা পরিধান করা হয়, যা দূর থেকেই পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে ফেলে, তাহলে এমন বোরকায় তো পর্দা হলো না। এমন বোরকায় লাভ না হয়ে ক্ষতি ই হয়। বোরকা না পড়লে হয়তো অনেকেই তোমাদের দিকে তাকাতো ই না, কিন্ত এমন সজ্জিত বোরকা পড়ার কারনে সবাই তাকাচ্ছে।
যে বোরকা পর্দা পালনে ব্যবহার হয়, সেই বোরকাকে ই আজ চরিত্রহীনা নারীরা ফ্যাশনে পরিনত করে বোরকা নামের বস্তকে উপহাসের সামগ্রী বানিয়ে নিয়েছে।
আবার অনেক নারীরা আছে, যারা বোরকা পরে, কিন্তু মুখ খোলা রাখে। এটা আবার কেমন পর্দা? হাস্যকর!! এরকম বোরকা পড়লে কি আর পর্দা হলো? কারন মুখ ঢেকে রাখা ফরয।
আল্লাহ পাক তো বলেছেন,
"মুসলিম নারীগণ কোন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে যেন, ভালো ভাবে চেহারা কে ঢেকে নিয়"
(সূরা আহযাব: ৫৯)

নবীজি (সা.) এর হাদীস:
হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বলেন, আমরা পর পুরুষের সামনে আমাদের চেহারা ঢেকে রাখতাম।(মুসতাদরাকে হাকীম ২/১০৪)
আরো দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮০৪; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৬৯;
সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩২৪, ৪৭৫৭, ১৮৩৮; ফাতহুল বারী ২/৫০৫, ৮/৩৪৭;
উমদাতুল কারী ৪/৩০৫; মাআরিফুস সুনান ৬/৯৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/২৬৮; মাজমুআতুল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২২/১০৯, ১১৪)

কারন মানুষের সুন্দর্য হলো, তার চেহারায়। সুতরাং মুখ খোলা রেখে ইসলামের বিধান লঙ্গন করে কেমন করে পর্দা পালন হতে পারে!

”পর্দা নামে বোরকা পরে পর্দা কিন্তু করে না
পর্দা নিয়ে ফ্যাশন করা এটাই তাদের ভাবনা”

এখানে প্রাসংঙ্গিক কিছু কথা না বললেই নয়।
আহলে হাদীস, লা-মাযহাবী ভ্রান্ত মতবাদীরা বলে যে, চেহারা নাকি পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়! তারা বলে নারীদের মুখ খোলা রাখা জাইয। তাদের এই কথা যে সম্পুর্ণই ভ্রান্ত, এবং এটা যে তাদের চরম মুর্খতা, তা উল্লেখিত কুরআন-হাদীসের প্রতি লক্ষ করলে সহজেই বুঝা যায়।
আরো কিছু দলীল আলোচনার শেষ দিকে উল্লেখ করবো, ইনশা আল্লাহ!

কিছু মানুষ কে বলতে শুনা যায় যে, আমরা আরব দেশে দেখেছি, নারীরা বোরকা পড়ে, মুখ খোলা রাখে। তাহলে তারা কি কুরআন-হাদীস জানে না?
আমি ঐ সকল লোকদের বলছি, জনাব, আপনি কি কুরআন-হাদীসের অনুসরন করেন? নাকি আরব কে? আরব দেশ কি শরিয়তের মাপকাঠি?? আরবের লোকেরা কোন হারাম কাজ করলে তা কি জাইয হয়ে গেল? মুখ ঢেকে রাখার ব্যাপারে কুরআন-হাদীসের স্পষ্ট ভাষ্য থাকার পর ও যদি আপনি এ কথা বলেন, তাহলে বলতে হবে, "আপনি একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি"

আরো কিছু লোক বলে থাকে যে, হুজুররা বলেন, পর্দা যীনা, ব্যাবিচার, ধর্ষন ঠেকায়, কিন্তু বর্তমানে তো দেখা যাচ্ছে, বোরকা পরিহিতারা ও ধর্ষিত হচ্ছে।
তাদের কে বলছি, আপনি যাদের কে বোরকা পরিহিতা বলছেন, ভালো করে দেখুন তো, তারা কি সত্যিকার পর্দা পালনে বোরকা পড়েছে? নাকি ফ্যাশন করেছে?
দেখবেন প্রায় সবাই ই পর্দা নয় বরং ফ্যাশন করেছে। উলামায়ে কেরাম ফ্যাশন কে নয়, বরং সত্যিকার পর্দা কে ধর্ষন প্রতিরুধক বলেছেন।
আবার অনেক সময় দেখা যায়, সত্যিকার পর্দাশীন নারী ও শিশুরা ও ধর্ষনের শিকার হয়। এর জন্য ও ঐ সকল পর্দাহীন অর্ধ উলঙ্গ নারীরা ই দায়ী। তারা নগ্ন দেহে উশ্রিখংল ভাবে চলাফেরা করে কিছু মানব রূপি পশুদের যৌন পিপাষা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তাদের ক্ষমতা আর দাপটের কারনে ঐ সমস্ত কুলাঙ্গার রা এদেরকে ধর্ষনের সাহস পায় না। তাই তারা তাদের পশুত্বকে নিরহ নারী ও
শিশুদের উপর প্রয়োগ করে।

এবার মুল প্রসংগে আসা যাক!
আল্লাহ তা'য়ালা, পুরুষগণ কে যেমন ভাবে পর-নারী দেখতে নিষেধ করেছেন, ঠিক তেমনি মহিলাগণ কে ও পর-পুরুষদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু কখনও নারীদের কে দেখা যায়, পর্দার আড়াল থেকে পর-পরুষদের দেখে। তারা মনে করে, যেহেতু পর-পুরুষরা আমাদের দেখছে না, তাই কোন গোনাহ হবে না। এটা তাদের চরম মুর্খতা ও ভূল ধারনা।

কুরআনে কারীমে নির্দেশ এসেছে-

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ.

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে।
(সূরা নূর: ৩১)

উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। উম্মুল মুমিনীন মায়মুনা (রা.) ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) উপস্থিত হলেন। এটি ছিল পর্দা বিধান নাযীলের পরের ঘটনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার সামনে থেকে সরে যাও। আমরা বললাম, তিনি তো অন্ধ, আমাদেরকে দেখছেন না?!
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না?
(সুনানে আবু দাউদ ৪/৩৬১, হাদীস: ৪১১২; জামে তিরমিযী ৫/১০২, হাদীস: ২৭৭৯;
মুসনাদে আহমাদ ৬/২৯৬; শরহুল মুসলিম, নববী ১০/৯৭; ফাতহুল বারী ৯/২৪৮)

সুতরাং উল্লেখিত কুরআন-হাদীসের মাধ্যমে বুঝা গেল যে, মহিলাদের জন্য ও পর-পুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করা সম্পুর্ণ হারাম।

পর্দার জন্য বোরকা কেমন হওয়া জরুরী?

পর্দার জন্য বোরকা হতে হবে বড় এবং ঢিলে ঢালা।  যাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং দেহ আকৃতি প্রকাশ না পায়। পাতলা বা নেট জাতীয় হতে পারবে না, যেন বাহির থেকে ভিতর দেখা না যায়। আকর্ষনীয় ও কারুকার্য থেকে মুক্ত হতে হবে, যেন পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষন না করে। চেহারা সহ সমস্ত সরীর ঢাকা থাকতে হবে।

যদি এই শর্ত গুলো মেনে বোরকা পরিধান করা হয়, তবে তাই হবে মূলত পর্দা। আর তখন ই পর্দার বিধান কে মানা হবে।
যদি এই শর্তগুলোর কোন একটি শর্ত না মেনে বোরকা পড়া হয়, তাহলে তা পর্দা হবে না। বরং ফ্যাশন করা হবে। এটাই হলো পর্দা ও ফ্যাশনের পার্থক্য।

পর্দা সম্পর্কিত আরো কিছু অকাট্য দলীল:

عَنْ عَبْدِ الْخَبِيرِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَالُ لَهَا أُمُّ خَلَّادٍ وَهِيَ مُنْتَقِبَةٌ، تَسْأَلُ عَنِ ابْنِهَا، وَهُوَ مَقْتُولٌ، فَقَالَ لَهَا بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: جِئْتِ تَسْأَلِينَ عَنِ ابْنِكِ وَأَنْتِ مُنْتَقِبَةٌ؟ فَقَالَتْ: إِنْ أُرْزَأَ ابْنِي فَلَنْ أُرْزَأَ حَيَائِي،

হযরত আব্দুল খায়ের বিন সাবেত বিন কায়েস বিন শাম্মাস তার পিতা, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা এক মহিলা রাসূল সাঃ এর কাছে এলেন। যাকে উম্মে খাল্লাদ বলা হয়। তিনি এমতাবস্থায় এলেন যে, তার চেহারা পর্দাবৃত ছিল। সে এসে তার নিহত সন্তানের ব্যাপারে অভিযোগ জানায়। তখন কতিপয় সাহাবী তাকে বলেন, “তুমি তোমার ছেলের ব্যাপারে অভিযোগ দাখিল করতে এসেছে, তারপরও তুমি পর্দাবৃত হয়ে এলে?” তখন উম্মে খাল্লাদ বলেন, যদিও আমার ছেলের উপর বিপদ এসেছে, এর মানেতো আমার লজ্জা শরমেরও বিপদ আসেনি।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৪৮৮}

আরেক বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: ” لَمَّا نَزَلَتْ: {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} [الأحزاب: 59]، خَرَجَ نِسَاءُ الْأَنْصَارِ كَأَنَّ عَلَى رُءُوسِهِنَّ الْغِرْبَانَ مِنَ الأَكْسِيَةِ “


إسناده قوي. ابن خثيم -وهو عبد الله بن عثمان- لا بأس به. ابن ثور: هو محمد بن ثور الصنعاني، ومحمد بن عُبيد: هو ابن حِساب الغُبَري.


وأخرجه ابن أبي حاتم في “تفسيره” كما في “تفسير ابن كثير” 6/ 48 – 49 من طريق الزنجي مسلم بن خالد، عن عبد الله بن عثمان بن خثيم، به مطولاً.

হযরত উম্মে সালামা রাঃ বলেন, যখন কুরআনে কারীমের এ আয়াত يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ

তথা “তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। [মাথার দিক থেকে]” -সূরা আহযাব-৫৯} নাজিল হয়, তখন আনসারী মহিলারা স্বীয় ঘর থেকে এমনভাবে বের হতো যেন তাদের মাথায় কাক বসে আছে।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪১০১}

হযরত মুফতী শফী রহঃ “আহকামুল কুরআন” গ্রন্থে লিখেন যে,

فى هذه الآية دلالة على أن المرأة الشابة مأمورة بستر وجهها من الأجنبيين

এ আয়াত একথা বুঝাচ্ছে যে, যুবতী মেয়েরা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এমনভাবে বের হবে যেন তাদের চেহারা পরপুরুষের সামনে প্রকাশিত না হয়।
{আহকামুল কুরআন-৩/১৪৫৮}

عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, নারী জাতি হল আপাদমস্তক সতর। যখনি সে বের হয়, তখনি শয়তান তাকে চমৎকৃত করে তোলে।
{সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১৭৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২০৬৫, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৬৮৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৫৯৮}

অন্য বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّهَا كَانَتْ تَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَهِيَ مُنْتَقِبَةً»

হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ বাইতুল্লাহ তওয়াফ করতেন পর্দাবৃত অবস্থায়।
{মুসন্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৮৮৫৯}

কিন্তু যা “সাধারণতঃ প্রকাশমান” বলে চেহারা ও হাত উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। যা তীব্র প্রয়োজনের সময় যেমন প্রচন্ড ভীর, আদালতে সাক্ষ্য প্রদান ইত্যাদি প্রয়োজনে খোলা জায়েজ আছে।

এ দুটি বিষয়কে পৃথক করা হয়েছে সতর থেকে। পর্দা থেকে নয়। অর্থাৎ এ দুটি অংশ সতরের অন্তর্ভূক্ত নয়। কিন্তু পর্দার অন্তর্ভূক্ত। এ কারণেই নামাযরত অবস্থায় হাত ও মুখ এবং পা ঢাকতে হয় না। এসব খোলা রেখেই নামায হয়ে যায়। কারণ এসব সতর নয়। আর নামাযে সতর ঢাকা ফরজ।

কিন্তু বাহিরে বের হওয়ার সময় যেহেতু সতরের সাথে সাথে পর্দা রক্ষা করাও ফরজ, তাই এসব ঢেকে রাখা ফরজ।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাই কে সঠিক বুঝ দান করুন।  আ মী ন;



No comments

Powered by Blogger.